লিড নিউজ

সানজিদার সাফল্যের গল্প পড়ছে লাখো শিক্ষার্থী

  প্রতিনিধি 3 July 2020 , 6:35:32 প্রিন্ট সংস্করণ

লুৎফা সানজিদা ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। সংসারে সচ্ছলতা আনতে হাতে তুলে নেন সুই-সুতা। শুরু করেন সেলাইয়ের কাজ। শিশুদের পোশাক ও পাঞ্জাবি তৈরি করে সরবরাহ করতে থাকেন স্থানীয় বাজারে। তখন পুঁজি ছিল মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

১৯৮৯ সালে এগিয়ে আসেন এক মামাতো ভাই। তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়ে নগরীর চকভিউ মার্কেটে শোরুম খোলেন সানজিদা। ধীরে ধীরে ধরা দিতে থাকে সাফল্য। এখন তিনি অনিন্দ্য বুটিক হাউস ও অনিন্দ্য বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী। নগরীর বড়পুল মোড়ের হালিশহর এল ব্লক ও হালিশহর নিউ আই ব্লকে পৃথকভাবে অনিন্দ্য বুটিক হাউস ও অনিন্দ্য বিউটি পার্লার সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করছেন। সেই সঙ্গে নগরীর আফমী প্লাজায়ও তার অনিন্দ্য বুটিক হাউসের একটি শোরুম রয়েছে। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও ২৬ বছরের ব্যবধানে সংগ্রামী এ নারী এখন সফল উদ্যোক্তা, কোটিপতি।

সানজিদার সংগ্রামের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে প্রকাশিত নবম-দশম শ্রেণীর ব্যবসায় উদ্যোগ বইয়ে। সারাদেশের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়ছেন কঠোর পরিশ্রম করে সফল হওয়া এক নারীর গল্প। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতেই লুৎফা সানজিদার বর্ণাঢ্য জীবনী তুলে ধরা হয়েছে বইটির দ্বাদশ অধ্যায়ে। বইটি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ মুদ্রণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সফল নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার লুৎফা সানজিদা সমকালকে বলেন, ‘বাণিজ্য বিভাগের নবম ও দশম শ্রেণীর লাখ লাখ শিক্ষার্থী আমার সাফল্যের গল্প পড়বে, দেশের মানুষ জানবেন- এটা কখনও কল্পনাও করিনি। পাঠ্যবইয়ে আমার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরায় এটিকে জীবনে অনেক বড় পাওয়া মনে করছি। কারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে ব্যবসা শুরু করলে তাতে সফল হতে এ সংগ্রামের কাহিনী তাদের মানসিক শক্তি ও
সাহস জোগাবে। কিশোর শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে। আজ নিজেকে কিছুটা সফল মনে হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের দুটি বুটিক হাউস ও দুটি পার্লার পরিচালনার পাশাপাশি পরিবারকেও আগলে রেখেছেন শক্তভাবে। তার দুই সন্তান সানভিরাজ তানজিল ও তাহমিম রহমানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলছেন। বড় ছেলে তানজিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে এখন ঢাকায় ব্যবসা করছেন। ছোট ছেলে তাহমিম সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ে পড়াশোনা করছেন।

সফল উদ্যোক্তা সানজিদার প্রতিষ্ঠিত দুটি বুটিক হাউস ও দুটি পার্লারে দুই বছর আগে অর্ধশত কর্মচারী নিয়মিত কাজ করলেও ব্যবসায় মন্দাভাব থাকায় এখন কমে এসেছে কর্মচারীর সংখ্যা। বর্তমানে আছেন ২৪ জন কর্মচারী। তাদের মধ্যে আবার অর্ধেক কর্মচারীই নারী। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সফল নারী উদ্যোক্তা সানজিদা ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী নারী, স্বামী পরিত্যক্ত ও নির্যাতিত নারীদের বিনামূল্যে বুটিক ও পার্লারের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি যখন ব্যবসা শুরু করেছিলেন তখন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন ৫ জন কর্মচারী।

বইয়ে যা পড়ছে শিক্ষার্থীরা :বইটির দ্বাদশ অধ্যায়ে ‘সফল উদ্যোক্তাদের জীবনী থেকে শিক্ষণীয়’ শিরোনামে পড়ানো হচ্ছে সফল উদ্যোক্তাদের সফলতার গল্প। বইটির ১৩৬ ও ১৩৭ পৃষ্ঠায় তুলে ধরা হয়েছে লুৎফা সানজিদার সফল হওয়ার গল্প। দুই পৃষ্ঠায় লুৎফা সানজিদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহরের অনিন্দ্য বুটিক ও অনিন্দ্য বিউটি পার্লারের মালিক লুৎফা সানজিদা ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন বুটিক ও পার্লার হাউস। সংগ্রামই তার জীবনের মূলমন্ত্র।

অবিরাম চেষ্টা না থাকলে তার আজকের অবস্থায় আসা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে তখনই ধৈর্য ও পরিশ্রম দিয়ে তা অতিক্রম করেছেন। যখন তার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময়, তখন বিয়ে হয়। সংসারের প্রয়োজনে তাকে করতে হয় পার্টটাইম চাকরিও।

পরে ১৯৮৯ সালে চকভিউ মার্কেটে একটি শোরুম খোলেন। এখানে বিকিকিনি ভালো হওয়ায় ১৯৯৫ সালে মাইডাস চট্টগ্রাম থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সে আকেরটি শোরুম খোলেন। ব্যবসা জমে ওঠে। পরিবারে সচ্ছলতা আসতে থাকে। ২০০৪ সালে একটি বিউটি পার্লার দেন। ব্যবসা করে তিনি এখন সফল।

আরও খবর 39

Sponsered content